এক এক্কে তিন – ব্যোমকেশ এর অগ্নিবাণ!

 

unnamed (2)

প্রথম বার সিনেমা হলে গিয়ে ব্যোমকেশ!
“সত্যান্বেষী”
“অগ্নিবাণ”
আর “উপসংহার”
তিন তিনটে “ব্যোমকেশ” একসাথে। যেনো বাই ওয়ান গেট টু ফ্রি। শুনতে হয়তো অদ্ভূত লাগছে কিন্তু এটাই….! তিনটে গল্প তাও একটা গোটা ফুটবল ম্যাচের সময় ধরে। অঞ্জন দত্ত এখানেই বাজিমাৎ করে ফেলেছেন। আসলে গল্ল তিনটে মনে থাকলে সহজে বোঝা যায় তিনটের মধ্যে একটা বিরাট যোগসূত্র আছে এবং প্রত্যেকটার মূলে একটা বিষ বিষ ব্যাপার আছেই।
সত্যান্বেষী যদিও মলাটে বাঁধা ব্যোমকেশ সমগ্রের প্রথম গল্প কিন্তু শরদিন্দুর লেখা প্রথম রহস্যকাহিনী কি, সেটা জানতে সমগ্রের শেষ দিকে “পরিশিষ্ট” তে উঁকি দিলেই জানা যায়। – “পথের কাঁটা” প্রথম গল্প। যেখানে আমরা সত্যান্বেষী ব্যোমকেশকে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন পাঠক হিসেবে চিনতে পারি। এটা সম্প্রতি সানডে সাসপেন্স এর দৌলতে সবারই জানা প্রায়। যাই হোক্, “সত্যান্বেষী” গল্প নিয়ে বিশেষ কিছুই দেখানো হয়নি, তবু যারা ব্যোমকেশ পড়েছেন, তারা সহজেই এই গল্প মনে রেখেছেন,আশা করা যায়ই, তাই “ব্যোমকেশ ও অগ্নিবাণ” দেখতে গিয়ে প্রথম দৃশ্য দেখে কেউ কেউ অবাক হয়ে যেতেই পারেন যে কি সিনেমা দেখতে এলাম! সত্যান্বেষী র গুপ্ত কোকেন বিক্রেতা অনুকূল “উপসংহার” এর কোকোনদ গুপ্ত। আর “অগ্নিবাণ” এর পরের গল্প “উপসংহার” এটা তো মনেই আছে, আশা করা যায়। অগ্নিবাণ এর কনসেপ্ট কাজে লাগিয়ে উপসংহারে কিস্তিমাৎ। তবে চিত্রনাট্য এর খাতিরে কিছু কেমন রদবদল হয়েছে যদিও, সেগুলো না হয় হলে গিয়েই দেখা যেতেই পারে। যিশুকে ব্যোমকেশ এর চরিত্রে বেশ মানিয়ে গেছে। আবীরকে মনেই পড়ছে না। অজিতকে নিয়ে সম্ভবত পরিচালকও কিছু বলবেন বলে মনে হয় না। মূল গল্প উপসংহার দেখানো হলেও অগ্নিবাণও বেশ আরামসে দেখিয়ে দিলেন এবং পুরোটাই। ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়ে সেই মেস, মানে সত্যান্বেষী। যতটা দরকার। এখানেই অঞ্জন দত্ত আরো একবার সফল ব্যোমকেশ বানানোয়। একটা গান শুনলাম, একটাই, বেশ ভালো, ঐ পাব সং যাকে বলে, গায়িকা নিয়ে বেশ দোলচালের পর ইউটিউবে গিয়ে দেখলাম, একদম অচেনা। খারাপ লাগেনি সত্যি। নীল দত্তই সম্ভবত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটাও করেছেন, বিঠোফেন পেলাম একদুবার। মাঝে এক দুবার একটু অতিরিক্ত লাগছিলো কিন্তু ঐ যে একসাথে তিনটে গল্প, আর দুটোকে বেশ মোড়কে বাঁধলেন যে, তার জন্য ঐ টুকটাক ভুলে যাওয়া যায় সিনেমা শেষ হওয়ার পরেই। অঞ্জন দত্ত অভিনয়েও বেশ। উপরি পাওয়া হিসেবে স্বস্তিকা, স্ক্রিনে আসতেই হালকা উত্তেজনা বয়ে চলতেই পারে। কড়া ডায়লগ আর ওমনি চরিত্র আর কাউকে মানাতো কিনা, সেটা সম্ভবত মনে আসতেই দেয়নি। সব মিলিয়ে সিনেমাটা দারুন উপোভোগ্য! পুরো ষোলোয়ানা ব্যোমকেশ লাগলো!
IMDB তে ভোটার হিসেবে ১০ এ আট দেবোই। বাংলা সিনেমা নয় দিয়ে দিতেও পারি।

*****

যাই হোক, “আদিম রিপু”, “চিত্রচোর”, “বেণীসংহার”, “কহেন কবি কালিদাস” এর পর তিনটে গল্পজুড়ে এই সিনেমা রীতিমতো দত্তবাবুর অন্যান্য সিনেমাগুলোকে পিছিয়ে দিতেই পারে। সেটা দর্শকদের হাতে অবশ্যই। তবে যিশুকে মানিয়ে গেছে। চুনোপুঁটি দর্শক হিসেবে আর বদল চাইনা ঐ পোস্টে।

—————————————————–

তবে এটা না সিনেমা রিভিউ, না সমালোচনা। এটা শুধু অনুভূতি। আমার রিভিউ পরিচালক কে তার খ্যাতি থেকে নামাবেও না, ওঠাবেও না, প্রোডিউসার এর ক্ষেত্রেও একই কথা। “হরি” সিনেমা হলে ৩০ টাকার টিকিটে এ সিনেমা দেখলে মেদিনীপুর এর কোন বাঙালির কোন ক্ষতি হবে বলে আমার অন্তত মনে হয় না (যদি ঐ ৯০ মিনিট সময় টা ক্ষতির আওতায় ফেলা না হয়)। কারণ অবশ্য আছে, এর আগে মেঘনাদবধ রহস্য দেখতে গিয়ে সাকুল্যে ত্রিশ জনকে দেখেছিলাম, এবার হয়তো দশ জন বেশি তার চেয়ে, এই প্রথম ব্যোমকেশ দেখলাম সিনেমা হলে। কিন্তু সত্যিই যদি ছুটির দিনেও একটা অতি পরিচিত বাঙালি কেন্দ্রীক চরিত্র নিয়ে বানানো সিনেমা দেখতে এতো কম দর্শক আসেন, তাহলে হয়তো হল কর্তৃপক্ষ ও সাহস পাবেনা পরবর্তী কালে এরকম সিনেমা আনতে, এই জন্যই “প্রজাপতি বিস্কুট” ব্রাত্য, “বিসর্জন” এক সপ্তাহ কেন! তারও উত্তর একই। আমি প্রচারও করছি না, তবে সত্যিই বাংলা সিনেমা যারা ভালোবাসেন, যারা ব্যোমকেশকে পড়েছেন, রেডিওতে শুনেছেন, তাদের জন্য বলছি, তাদেরকে বলছি, সবাই কিন্তু তিরিশ টাকা দিয়েও আজকাল বাংলা সিনেমার স্বাদ পায়না।

সিনেমা টা মন্দ নয়!! বাহুবলীর মতো আড়ম্বরপূর্ণ না হোক্, বাঙালি গন্ধ আছে, টিকিয়ে রাখাটায় জরুরি! সেটা কবে বুঝবো আমরা?

বিঃদ্রঃ সাবটাইটেল দেখার অসুবিধার জন্য স্থান পরিবর্তন করার জন্য আমার পার্টনার হাসা হাসি করলো। ভাই সৌমেন, “ধোয়া তুলসিপাতা” ইংরেজিটা কিন্তু আজ জানলাম, “Paragon of virtues”। – কে জানে, হয়তো সংগ্রহ আরো বাড়তো খিল্লিটা না করলে!😂😂

#ByomkeshOAgniban #AnjanDutta

#dS

© শুভঙ্কর দত্ত || October 15, 2017

Advertisements

Palindrome : উল্টে দিলেও পাল্টাবে না

SAVE_20171007_143354
সাত দশ দুহাজার সাতরো

নিধুরাম রাধুনি,
রমাকান্ত কামার,
সুবললাল বসু,

— নাহ এরা কোন আসামী নন। আবার,

সীমার মাসি’ (কে আমিও চিনি না)
‘বল খেলব’
‘বই চাইব’
— এইসব আমি করছিও না।
যাই হোক, উপরের কতগুলো নাম বা বাক্যগুলিকে সামনে এবং পিছন থেকে লিখলে একই রকম শব্দ দাঁড়ায় এবং সত্যি বলতে কি আমাদের মাতৃভাষায় এদের খুব একটা দেখা মেলে না।

যাই হোক্, এই ধরনের শব্দ বা নম্বর বা যেকোনো কিছুকেই ইংরেজি অভিধানে “Palindrome” বলা হয়। অর্থাৎ কোন শব্দ বা শব্দাংশকে বা বাক্যকে যদি উল্টদিক থেকে লেখা বা পড়া হয় তাহলে একই  আসবে।

হঠাৎ এই বিষয়টা নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণ হলো আজকের তারিখটা নিয়ে গত দু দিন ধরে আসা অসংখ্য হোয়াটসআপ মেসেজ এবং আজকের কিছু ফেসবুকীয় উৎকোচ। যাই হোক, আজ 7-10-2017, উল্টে দিলে মোটেই পাল্টাবে না, কিন্তু এটা ১-১০-২০১১
২-১০-২০১২
৩-১০-২০১৩
৪-১০-২০১৪
৫-১০-২০১৫
৬-১০-২০১৬

এতো গুলো দিন বা তারিখে হলেও সাতেরা সালের সাতের অক্টোবরের মতো হিট হলো না, তার কারণ?  অবশ্যই ২০১৬ এর আগে আম্বানীজেঠ্যুর প্রসাদ ‘জিও’ ছিলো না, আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে অ্যানড্রোয়েড ব্যবহারকারীও কম ছিলো, ডট ডট ডট ডট ওয়াটসআপে ভাইরাল হওয়ার ঘটনাও তাই কম। যাই হোক্,
এবার প্যালিনড্রোম নিয়ে একটু ড্রাম বাজানো যাক্।

♦ “Palindrome” শব্দটি প্রথমবার ব্যবহার করেন ব্রিটিশ নাট্যকার বেন জনসন,  সপ্তদশ শতাব্দীতে।যেটি গ্রীক শব্দযুগল “palin”(=again) এবং dromos (=direction) থেকে নেওয়া।

প্যালিনড্রোমের সাতকাহন ::
Sator square

OLYMPUS DIGITAL CAMERA
পুড়ে যাওয়া পমম্পেই থেকে উদ্ধার করা প্যালিনড্রোমের সবচেয়ে পুরানো নমুনা

প্যালিনড্রোমের অস্তিত্ব বহু পুরাতন। ৭৯ খৃষ্টাব্দে এর অস্তিত্ব মেলে।
মাউন্ট ভিসুভিয়সের জ্বালায় পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়া হারকুলেনিয়াম শহর থেকে একটা স্থাপত্যের অংশবিশেষ হয়তো, যেখানে খোদিত আছে একটা বর্গক্ষেত্রের মধ্যে,  ল্যাটিন শব্দ দিয়ে একটি বাক্য
Sator Arepo Tenet Opera Rotas (‘The sower Arepo holds with effort the wheels”)। তবে এমন একটি নিদর্শন বেশ কাকতালীয়।  উলম্ব বা অনুভূমিক যেকোনো দিক থেকে বা উপর নীচ পড়লেও যথেষ্ট ভালো ভাবে প্যালিনড্রোমে সাড়া দেয়। কিছুক্ষণ এইরকমভাবে পড়তে থাকলে হয়তো মাথা ধরে যেতেও পারে।

★ইংলিশে কিছু বিখ্যাত প্যালিনড্রোম দেখা যাক্।

“Able was I ere I saw Elba”,

“A man, a plan, a canal – Panama!”,

“Never odd or even”
যতিচিহ্ন বা Punctuation নিয়ে বেশি না ভেবে  উল্টেদিলেই সুন্দর পাওয়া যাবে একইরকম বাক্যটিকে।
গণিতবিদ পিটার হিলটন, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এনিগমা নিয়ে কাজ করেছেন, কোড ভেঙে দেওয়ার কাজে পারদর্শী ছিলেন, তার ব্যবহার করা একটা বাক্য বেশ বড়ো আকারের একটা প্যালিনড্রোম।
“Doc, note: I dissent. A fast never prevents a fatness. I diet on cod” (কমা,ডট এর বহর না রেখে উল্টে লিখে দিন,  হাতে নাতে ফল!)

কিছু শব্দ: redivider, noon, civic, radar, level, rotor, kayak, reviver, racecar, redder, madam, refer

কয়েকটা বাক্য:
Mr. Owl ate my metal worm”

“Was it a car or a cat I saw?”

“Go hang a salami, I’m a lasagna hog.”
এই বাক্যগুলো ওল্টানোর সময় যতিচিহ্নদের জমি জায়গা নিয়ে একটু আলগা দিতে হবে।

“Rats live on no evil star”,
“Live on time, emit no evil”,
“Step on no pets”, 
এই বাক্যগুলোতে কিন্তু হুবহু একই আসবে। একদম একই।

Semordnilap বলেও একটা বস্তু আছে, যেটিও একপ্রকারের প্যালিনড্রোম কিন্তু এখানে একই রকম শব্দ বা বাক্য মেলে না, তাত্ত্বিক দিক দিয়ে Palindrome নয়, কিন্তু যেহেতু অর্থবহ শব্দই উৎপন্ন করে তাই অন্য গোত্রের প্যালিনড্রোম বলা হয়।
এদের একটা উদাহরণ দেওয়া যাক্।
mho যা কিনা Electrical conductance বা পরিবাহিতা এর একক, উল্টো চেহারাটা ohm (ওহম), বেশ চেনা পরিচিত, যা কিনা Electrical resistance বা রোধের একক। (হবেই না বা ক্যানো একটি যে আর একটির অনোন্যক বা Reciprocal)।

কিছু নাম:
বাংলা নাম বেশ কয়েকটি বলেইছি। Hannah,  Bob, Anna বিদেশী নাম এবং কিছু পদবী যেমন Renner, Salas।
LON NOL কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নামটিও বেশ নমুনাস্বরূপ।
*কিছু মানুষ তাদের বাপ্ মা প্রদত্ত নাম পরিবর্তন করেছেন, Palindrome আনতে।
জনপ্রিয় টিভি সিরিজ “Hercules” এ অভিনয় করে নজর কাড়েন মার্কিন অভিনেতা   Robert Schenkman,  যার পোশাকি নাম Robert Trebor।
রক শিল্পী Ola Salo আরো একজন এই তালিকায়।

Palindromic number :
এটা নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। বেশি কিছু বলতে গেলেই মাথাটা এক্কেবারে ভোঁ ভোঁ করবে। আপাতত এটা নিয়ে মাথা ঘামাবে যারা ম্যাথেম্যাটিক্স নিয়ে উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত। নতুন করে বলতে হয় না, জিনিস টা কি! আজকের তারিখটিও এর আওতায় পড়ে।
যেমন একটা কম্পিটিটিভ পরীক্ষায় একটা সিরিজ পড়েছে
59, 154, 605,  __
Ans: 1111
59+95=154
154+541=605
605+506= 1111

বড়োসড়ো Palindrome :
অক্সফোর্ড ডিকশনারি মতে সবচেয়ে বড়ো Palindromic শব্দ হলো tattarrattat, যেটি একটি কেমিক্যাল শব্দ, যা Tartrates ওঠাতে কাজে লাগে।

কতগুলো বই বা উপন্যাস :

Satire: Veritas ( David Stephens  এর)
Dr Awkward & Olson in Oslo (Lawrence Levine এর)
কবিতা “Dammit I’m Mad” ( Demetri Martin এর লেখা)।

তবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী সব চেয়ে বড়ো প্যালিনড্রোম শব্দ হলো ফিনিশ শব্দ
১৯ শব্দের,
saippuakivikauppias ( soapstone  বা সাজিমাটি বিক্রেতা)।

আশ্চর্য হলেও আমাদের দেহের বংশগতির ধারক ও বাহক জিনের একক DNA এর গঠন কিন্তু Palindromic….একটু ভেবেই দেখুন।

ভারতীয় ভাষা Malayalam!! কি বেশ অদ্ভূত না?

যাই হোক, Palindrome নিয়ে সাত সতেরো শেষ। তবে একটা কথা মসকরা করে বলা যেতেই পারে, বিশ্ব চরাচরের প্রথম প্রেমালাপটি যে বাক্য সহযোগে ঘটেছিলো,  তাও হয়তো অজান্তেই Palindrome এর আওতায়।

“Madam, I’m Adam.”

আদমকে বলছে ইভ। ভাবা যায়…..!!
অনেক কিছু গুলিয়ে যাওয়ার আগেই 7 10 2017 এর প্যালিনড্রোমিকে আবার ফিরে আসুক, হিসেব শুরু আবার কবে Palindrome Date ফিরে আসে, সেই সঙ্গে ওয়াটসআপে ঝড়!

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:  https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=447387195654915&id=100011509142096 ( Jit Garai এর ফেবু ওয়াল)

তথ্যসূত্র:  https://en.m.wikipedia.org/wiki/Palindrome

#Palindrome

©শুভঙ্কর দত্ত || ৭১০২-০১-৭ ( October 7, 2107)

‘টম্পকিন্স’ এর স্বপ্ন সত্যি করে নোবেল ত্রয়ীর

FB_IMG_1507115439736
Nobelpriset i kemi

সালটা ১৯৬৮।  ১ লা সেপ্টেম্বর।
পদার্থবিদ জর্জ গ্যামো এবং মাইক্রোবায়োলজিস্ট মার্টিন্যাস ইয়ক্স এর লেখা একটা বই আত্মপ্রকাশ করলো, লন্ডনের Allen & Unwin নামের প্রকাশনা থেকে।
নাম কি?
“Mr. Tompkins Inside Himself : Adventures in New Biology”
চারটে খুব জনপ্রিয় বই আকারে এই সিরিজ প্রকাশিত হয়, যা রীতিমতো সাড়া ফেলে দেয় বিজ্ঞানী মহলে।

unnamed (1)
‘স্বপ্ন’ দেখানো বইয়ের প্রচ্ছদ

এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কাইরিল জর্জ হেনরি টম্পকিন্স (Cyril George Henry Tompkins), ছোট্ট করে মিস্টার টম্পকিন্স। সিটি ব্যাঙ্কে ব্যাঙ্কবন্ধুর কাজ করেন। ব্যাঙ্কের কাজ সেরে তার সহকর্মীরা যখন সিনেমাহল বা বারে গিয়ে রিল্যাক্স করেন, এই ভদ্রলোক কি করেন! না, একটা ইজি চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে সায়ন্সে ম্যাগাজিনে মনোনিবেশ করেন, ছোট থেকেই সায়েন্সের আপাদমস্তক রহস্যজনক বিষয়ে তার অনুসন্ধিৎসু মন তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় যে। তবে বিয়ের আগে তিনি ফিজিক্স নিয়েই বেশি সময় ভাবতেন, বিয়ের পর তার শ্বশুর, তিনিও কিনা পদার্থবিদ্যারই অধ্যাপক, দুজনে মিলে বুঝলেন যে রহস্যের আসল জায়গা হলো বায়োলজি।  ব্যস্ আর কে রক্ষে করে! সেই থেকে বায়োলজির আগাপাশতলা নিয়ে শুরু হলো তার স্বপ্ন দেখা।
সেরকমই,একবার  তিনি একখান অদ্ভূতুড়ে স্বপ্ন দেখছেন, পাঠকমহল হয়তো বলে উঠতেই পারেন- স্বপ্ন তো ওরকমই হয়। তা কি দেখছেন ভদ্রলোক?
— তিনি তার স্বপ্নালু চোখ দিয়ে প্রবেশ করে ফেলেছেন তার দেহের একবারে ভেতরে, সেখানে গিয়ে অবলীলায় প্রত্যক্ষ করছেন তার শরীর মধ্যস্থ কোষের স্থাপত্যকলা। এ কাজে তাকে তদারকি করছেন, বলা ভালো গাইড দিচ্ছেন তার ডাক্তারবাবু। এবার গাইড হলে যেমন হয় আর কি! জ্ঞান দিচ্ছেন, তাকে উৎসাহের সাথে বলে ফেললেন যে, শরীরের অভ্যন্তরের এই রকম দৃশ্যাবলী একমাত্র “ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোস্কোপ” এর সাহায্যে বোঝা খুব সহজ। (‘Through The Blood Stream’ শীর্ষক গল্পে)
***তবে এর আগেও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে, টম্পকিন্স এর গল্প, ততটা জনপ্রিয় হয়নি, ১৯৫৩ তে, “Mr. Tompkins learns the facts of life”।

এই ছিলো কল্পবিজ্ঞান,  ব্যস্! আর ওমনি বিজ্ঞানীমহল্লায় ভাবনা চিন্তার রোশনাই জ্বলতে শুরু হলো। তবে তখন খালি চোখে দেখা প্রায় অবাস্তব বা কল্পনা করা কঠিন এমন কিছু বস্তুকে দেখার জন্য ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোস্কোপ আবিস্কার হয়েইছে। ১৯৩১ এ ম্যাক্স নল এবং আর্নেস্ট রুস্কা প্রথমবারের জন্য হাই-রেসোলিউশন ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোস্কোপ বানিয়ে তাক্ লাগিয়ে দিলেন। তারপরও বেশ কয়েক বছর ধরে চললো খুঁটিনাটি পরীক্ষা, চললো উন্নত থেকে উন্নততর হওয়ার দিকে। শেষমেষ ১৯৮৬ তে রুস্কা ফিজিক্সে নোবেল পেলেন, তার আবিষ্কার যে আলো দিয়ে।
কিন্তু তখনও অবধি শরীরের কোন  biomolecule,  যাদের কিনা ক্রিস্টাল হিসাবে কল্পনা করাও দুঃসাধ্য ব্যাপার, তাদের কে দ্রবণের মধ্যে রেখেই তাদের গঠণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে চোখ রেখে দেখে নেওয়ার কথা ভাবা যায়নি।
১৯৬০ এ গ্লোবিউলার প্রোটিন নিয়ে জন কেনড্রিউ এবং ম্যাক্স পেরুজের কাজ কিছুটা যেনো পথ দেখায়।*

FB_IMG_1507138970824
Nobel alarm!

    ★★★★★ জোয়াকিম ফ্রাঙ্ক ★★★★★

*ঠিক তারই প্রায় তিন বছর দশেক পরেই কাজে নামেন জার্মানি বংশোদ্ভূত জোয়াকিম ফ্রাঙ্ক, গবেষণা শুরু হয় কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির  বিশেষ ল্যাবে, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৬, এই ১১ বছরের সুদীর্ঘ গবেষণায় তিনি বায়োমলিকিউলসের গঠনবিন্যাস কাঁটাছেঁড়া করে, তাদের দ্রবণ মধ্যস্থ দ্বিমাত্রিক গঠণ থেকে ত্রিমাত্রিক গঠণে নিয়ে গেলেন,সেটা ছিলো বেশ জটিল একটা প্রক্রিয়া।

FB_IMG_1507115465790
সূক্ষ থেকে সূক্ষ্মতর

★★★★★ জ্যাকস ডাবোশেট ★★★★★

এরপর University of Lausanne এর গবেষক, সুইস বিজ্ঞানী জ্যাকস ডাবোশেট ১৯৮০ র দিকে  ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোস্কোপে জল ব্যবহার করে অতি-সূক্ষতার মাধ্যমে কিছু স্যাম্পেল তৈরী করলেন, যেগুলি ইলেকট্রনীক মাইক্রোস্কোপের আলোর তাপমাত্রায় নষ্ট হয়ে গেলেও, এখানে হবে না, তার কারন, এই উপায়ে নমুনাগুলির চারিদিকে তিনি একরকম কাঁচ লাগিয়ে দিলেন, শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যার ফলে ভ্যাকুয়ামেও তার বিকৃতি না ঘটে। বেশ কিছুটা এগিয়ে গেলো আবিস্কার।

FB_IMG_1507115459434
নমুনা তৈরীর প্রক্রিয়া   Dubochet এর আবিষ্কার

    ★★★★★ রিচার্ড হেন্ডারসন ★★★★★

এরপর ১৯৯০ এ রিচার্ড হেন্ডারসন,  কেমব্রিজ এর MRC LABORATORY OF MOLECULAR BIOLOGY গবেষণাগারে দেখিয়ে দিলেন যে, cyro Electron Microscopy এর সাহায্যে জীবজ-অণুর পারমাণবিক গঠণ বোঝা বা দেখা সম্ভব।

তারপর পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর এবং আড়াই খানা দশক। তারাও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়েগেছেন আরো ধারালো করার জন্য। ২০১৩ এর দিকে তারা সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছান। বেশ কিছু জটিল জীবজ-অণু ও ভাইরাস নিয়ে পর্যবেক্ষণও চলে। এরপর আফ্রিকার মারণরোগের শিকার, সেই “জিকা” ভাইরাস এর ত্রিমাত্রিক অ্যাটোমিক স্ট্রাকচার প্রথম দেখেন   PURDUE UNIVERSITY এর গবেষক মাইকেল জি রসম্যান। যা কিনা বায়োকেমিস্ট এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রভূত কাজে আসে।

IMG_20171004_231736
একদম ডানদিকে গোলাকার ‘জিকা’

এই তিনজনকে রয়্যাল সুইডিশ আকাদেমি থেকে সম্মান জানানো হলো, রসায়নে নোবেল পেলেন কল্পকথাকে সত্য করেই। তাইতো নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান সারা লিনসে বলেই দিলেন –
“So there are no more secrets,…. we are  facing a revolution in Biochemistry”.

***********************************

সেই মিস্টার টম্পকিন্সের গপ্পে ফিরে যাই তবে…..
ভদ্রলোক তার গাইড ডাক্তার কে বলছেন-
“এটা কি সত্যিই যে ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোস্কোপ দিয়ে আপনি অণু-পরমাণু দেখতে পাবেন?”
খানিক মসকরার সাথে উত্তর দিলেন গাইডবন্ধুটি –
” নাহ্, সেরকম নয়, তবে আপনি বড়ো বড়ো প্রেটিন অণুগুলো ভালোভাবে দেখতে পাবেন, এটাই বা কম কিসের?”

যাই হোক্। “গল্প হলেও সত্যি” তো হলোই।

********************************

********************************

এবার আসি অন্য কথায়,
নোবেল কমিটির এই পুরস্কার ঘোষনার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনে বেশ তৃপ্তি লাগলো, না বলে পারলাম না। এক সুইডিশ মহিলা সাংবাদিক লাইভ ফোনে থাকা জোয়াকিম ফ্রাংককে জিগ্গেস করলেন –
What is the coolest molecule you have seen through your microscope?
সহজ সরল উত্তর। “আমি তো সারা গবেষণা জুড়ে শুধু রাইবোজোম ই দেখে গেছি। সুতরাং ওটাই।”

নোবেল কমিটির  উপদেষ্টা বিশিষ্ট পদার্থবিদ  Goran K Hansonn, জোয়াকিম ফ্রাংক এর সাথে কথোপকথনের পর জিগ্গেস করলেন সাংবাদিকদের কিছু বলার আছে কিনা,  চিনের এক ফ্রিলান্স মহিলা সাংবাদিক জিগ্গেস করলেন – আজ পর্যন্ত ২০১৭ র নোবেল প্রাপকদের ৯ জনের ৭ জন আমেরিকা থেকে গবেষণা করে পেয়েছেন। এর বিশেষত্বটা সম্বন্ধে কিছু যদি বলেন!

জোরান হানসনের জবাব শুনে মনে হলো সত্যিই ঐ চেয়ারটা কেনো ওনার জন্য এতোটা যোগ্য।
ওনার উত্তর-
‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পর্যায়ে আমেরিকা Fundamental Research এর ওপর জোর দিয়েছে। তারা পাখির চোখ করেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নে, কখনোই তৎক্ষনাৎ ব্যবহারিক দিকে তারা জোরাজারি করেনি। Intellectual environment প্রদান করেছে। আর সঙ্গে অর্থের আগমণ অর্থাৎ Powerful Resources।  অন্য সব দেশকেই আমরা স্বাগত জানাই প্রতি বছরই। কিন্তু শুধু আমেরিকা নোবেল পাচ্ছে, এটা দেখলেই তো হয় না, অন্য সব দেশ less  prevelged। ‘
সত্যিই প্রশংসাযোগ্য এই কথাগুলি।

 কুর্নিশ ঐ ত্রয়ীকে, দীর্ঘ চার -পাঁচ দশক ধরে কাজ চালিয়ে গিয়ে যারা আজ সম্মানিত হলেন। মিস্টার টম্পকিন্সের স্বপ্ন যারা সত্যি করলেন।

Joachim Frank (Columbia  University, USA)

Richard Henderson ( MRC LABORATORY OF MOLECULAR BIOLOGY, CAMBRIDGE UNIVERSITY,  UK)

JACQUES DUBOCHET (University of Lausanne, Switzerland) 

(for developing cryo-electron microscopy for high resolution structure determination of biomolecules in solution)

#nobelprize #Chemistry #dS
তথ্যসূত্র:
১| www.nobelprize.org

২।https://www.thoughtco.com/history-of-the-microscope-1992146 (History of microscope)

৩| “Mr. Tompkins Inside Himself : Adventures in New Biology” by George  Gamow & Martynas Ycas ( George ALLEN & UNWIN LTD, LONDON. 1ST SEPT, 1968)

৪|https://www.theverge.com/2016/3/31/11338450/zika-virus-structure-3d-purdue (THE WORKS OF ROSSMANN)

©শুভঙ্কর দত্ত || October 5, 2017

শতবর্ষ পেরিয়ে ‘নোবেল’ হলো মহাকর্ষ-তরঙ্গ

FB_IMG_1507037286349

নিউটন বলেছিলেন, মহাকর্ষ হল দুই বস্তুর মধ্যে অদৃশ্য আকর্ষণ বল।
আইনস্টাইন তাতে সায় দিলেন না। মানলো না তাঁর মস্তিস্ক। তাই খানিকটা নয়, একদম বেঁকে গিয়েই বললেন- মহাকর্ষ তা নয়, মহাকর্ষ আসলে অন্য ব্যাপার।
—-কী? যে কোনও বস্তু নিজের চারপাশে শূন্যস্থান বা ‘স্পেস’-কে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়।
তার মানে, মহাকর্ষ আসলে শূন্যস্থান বা ‘স্পেস’-এর জ্যামিতির খেলা
নিউটনের মতে, সূর্য পৃথিবীকে কাছে টানতে চায় বলে পৃথিবী তার চারদিকে ঘোরে।
আর আইনস্টাইনের ব্যাখ্যায়, সূর্যের উপস্থিতিতে তার চারপাশের ‘স্পেস’ যে দুমড়ে-মুচড়ে যায়, সেই ‘স্পেস’-এর মধ্যে দিয়ে চলার সময় পৃথিবীর গতিপথ বেঁকে যায়।
এইসব এর পর কেটে যাচ্ছে অনেকগুলো দশক। প্রায়  একটা শতকও। আসলে জিনিসটা কি, না মহাকর্ষ, তার আবার তরঙ্গ। তা, একে বাগে আনতে হলে তো চার দেওয়ালের ল্যাবরেটরি তে দিবারত্রি যাপন করলে চলবে না। অতএব! বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীদের নিয়ে আরম্ভ হলো গবেষণা।  শুনতে গল্পকথা লাগলেও এটি জানার জন্য প্রায় দু দশক ধরে ছোটাছুটি করেছেন বিজ্ঞানী মহল।

আগের বছর ১১ ই ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ‘ইউএস ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিজ্ঞানী ডেভিড রিৎজ আজ ঘোষণা করেন, ‘‘আমরা মহাকর্ষ-তরঙ্গের খোঁজ পেয়েছি।’’ বিজ্ঞানের ইতিহাসে তাই দিনটি “রেড লেটার ডে”!

এবার আসা যাক্ কি এই মহাকর্ষ তরঙ্গ, অতি রহস্যময় বস্তুটিকে করায়ত্তই বা করা হলো কিভাবে, কারায় বা করলেন!!

মহাকর্ষ তরঙ্গ কী?
~মহাশূন্যে ধুন্ধুমার ঘটনা  ঘটলে (প্রচণ্ড ভারী দু’টি নক্ষত্রের একে অন্যকে চক্কর কিংবা দু’টো ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষ এবং মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া), সে সব থেকে চার দিকে এক ধরনের তরঙ্গ বা ঢেউ ছড়ায়। যার নাম মহাকর্ষ-তরঙ্গ।
স্পেস বা শূন্যস্থানের কম্পন। ফলে ঐ শূন্যস্থানের আয়তন এই বাড়লো, তো ওমনি কমেও গেলো।

ligo-16
দুটি এরকম ব্ল্যাক হোলের মিশে যাওয়াটা ভাবনাটাকে সহজ করে দেয়

এই তরঙ্গেরই বা উৎপত্তির কারণ কী?
~ পুকুরে ঢিল পড়লে যেমন ঢেউ, সেরকমই মহাশূন্যে ভারী বস্তু নড়াচড়া করলে বা ঘুরলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, আরো ভালো ভাবে বললে “মহাকর্ষ-তরঙ্গ” এর সৃষ্টি হয়। ভারী বস্তু বলতে মহাকর্ষের সাপেক্ষে অবশ্যই, যেমন – ব্ল্যাক হোল।

কি এমন আহামরি যন্তরে ধরা পড়লো এই তরঙ্গ?
~ঢেউয়ের ফলে ‘স্পেস’ কাঁপে। মানে আয়তনে এক বার বড় তো আর এক বার ছোট হয়ে যায়। যে হেতু ঢেউয়ের জন্ম পৃথিবী থেকে হাজার-হাজার আলোকবর্ষ দূরে, তাই তার প্রভাব যখন পৃথিবীতে পৌঁছয়, তখন তা ক্ষীণ হয়ে যায়। ওই ক্ষীণতাই মহাকর্ষ-তরঙ্গ শনাক্ত করার প্রধান অন্তরায়। পৃথিবীতে আছে নানা রকম ঝাঁকুনি— ভূমিকম্প, ভারী ভারী ট্রাকের গতি, এমনকী সমুদ্রের ঢেউ পা়ড়ে আছড়ে পড়ার ঘটনা। তার মাঝখান থেকে পৃথিবীতে পৌঁছনো অতিক্ষীণ মহাকর্ষ-তরঙ্গ শনাক্ত করা খুব কঠিন কাজ। অতি সংবেদশীল যন্ত্রের সাহায্যে সেটাই আমেরিকায় করছেন বিজ্ঞানীরা।
~ যে প্রকল্পে কাজ হয়েছে, তার নাম ‘লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজার্ভেটরি’ (এলআইজিও)। আমেরিকার লিভিংস্টোন এবং হ্যানফোর্ড শহরে  চার কিলোমিটার লম্বা দু’টো ফাঁপা পাইপ। ক্যালিফোর্ণিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ক্যালটেক), ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিউট অব টেকনোলজি র বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে সারা বিশ্বের বহু বিজ্ঞানী ওখানে দু দশক ধরে নিরন্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছেন, সেখানে ভারতীয় বিজ্ঞানীরাও ছিলেন।

Virgo_aerial_view_01
লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজার্ভেটরি’ (এলআইজিও)/ LIGO

 

ligo-hanford-beam-tube
দানবীয় যন্ত্র

কিভাবে প্রমাণ হলো বিশেষ ঐ তরঙ্গের অস্তিত্ব?
~  বিজ্ঞানীরা মাপতে গিয়ে দেখেছেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর (২০১৫) যখন দু’টো ব্ল্যাক হোল মিশে গিয়ে মহাকর্ষ-তরঙ্গ সৃষ্টি করেছিল, তখন ওই চার কিলোমিটার অর্থাৎ লিভিংস্টোন এবং ওয়াশিংটনের দূরত্ব আর চার কিলোমিটার ছিল না। বেড়ে-কমে গিয়েছিল। অর্থাৎ, স্পেসের আয়তন বাড়ছিল এবং কমছিল।

এবার নিউটন ফেল করলেন আর আইনস্টাইন সসম্মানে পাশ করলেন?

~নিউটনের মতে,  মহাকর্ষ হলো মহাবিশ্বে দুটি বস্তুর মধ্যে অদৃশ্য টান। উনি তরঙ্গ নিয়ে কিছু বললেন না।আর আইনস্টাইনের মতে মহাকর্ষ কোনো দড়ি টানাটানি নয়, বরং শূন্যস্থানের কাঠামো বদল। তাই বস্তু নড়াচড়া করলে কাঠামোর অল্পবিস্তর কম্পন হবেই। তাই নিউটন মহাকর্ষ তরঙ্গ পর্যন্ত কল্পনা করতে অপারগ, কিন্তু অ্যালবার্ট পেরে গেলেন।

এই পাশ-ফেল নিয়েই বা চারিদিকের বিজ্ঞানীদের এতো ধুন্ধুমার কেনো?

~মহাবিশ্বে প্রতিনিয়ত এরকম ঘটনা ঘটেই চলেছে, যেখানে আকছার এরকম বড়ো বড়ো বস্তুকণার মিশে যাওয়ার ঘটনা সামিল, যেমন দুটো ব্ল্যাক হোল মিশে গিয়ে একটা। এইসব ঘটনায় অন্য সংকেত ধরা পড়ে না কিন্তু তরঙ্গ ছড়ায়।  ফলে তরঙ্গ কে ধরতে পারলেই কাম্ ক্ষতম। এই কাজটাই এতো বছর ধরে অতি সন্তর্পণে করে গেছেন শতাধিক বিজ্ঞানী। ২০১৫ এর সেপ্টেম্বর এ সংকেত এবং যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও ওনারা খুব একটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি।তারপর প্রায় ছমাস ধরে ডেটা চেক এবং রিচেক এর পর ওনারা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন।

ভারতীয় বিজ্ঞানীমহলের অবদান কী?

~ নিঃসন্দেহে অনেক অবদান আছে।
উল্লসিত ভারতীয় গবেষকেরাও। যে বিশাল পরীক্ষায় শনাক্ত হল মহাকর্ষ-তরঙ্গ, তাতে সামিল এ দেশের অনেক বিজ্ঞানী। তবে শুধু বিশ্বভ্রাতৃত্বের অজুহাতে নয়, আরও বড় কারণে ভারতীয় গবেষকেরা উল্লসিত। যে সাফল্য মিলেছে আমেরিকায়, তার পিছনে এ দেশের পদার্থবিজ্ঞানীদের অবদান যে অনেক! একশো বছর লাগে যার খোঁজ পেতে, তা যে জটিল বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র, তা বলাই বাহুল্য। মহাকর্ষ-তরঙ্গ শনাক্ত করতে তৈরি করতে হয়েছে অতি জটিল যন্ত্রপাতি। মাথা খাটিয়ে বার করতে হয়েছে ফাঁদ পাতার কৌশল। যে কৌশলে শনাক্ত হল মহাকর্ষ-তরঙ্গ, তা ১৯৮০-র দশকে বাতলেছিলেন দুই ভারতীয় বিজ্ঞানী-ই— সঞ্জীব ধুরন্ধর এবং বি সত্যপ্রকাশ।

*** উৎসাহের আরও একটি বড় কারণ আছে। যে পরিকল্পনায় আমেরিকায় শনাক্ত হল মহাকর্ষ-তরঙ্গ, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ভারতেই যন্ত্র তৈরি করে ও এ ব্যাপারে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। এই জন্য  ১২৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রায় দু’বছর ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টেবিলে পড়েছিল। আজ জানা গিয়েছে, সেই প্রকল্প অনুমোদন করার  প্রক্রিয়া সরকারি স্তরে শুরু হয়ে গিয়েছে। 

★★★★★ ★★★★★ ★★★★★

♦ এ বার ধরা যাক, কোনও কারণে সূর্যটা হঠাৎ আকাশ থেকে উধাও হয়ে গেল! নিউটনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সূর্য উধাও হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী সেই নিরুদ্দেশের খবর পাবে এবং সে কক্ষপথ পাল্টে দূরে হারিয়ে যাবে। আইনস্টাইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তা ঘটবে না। সূর্যের নিরুদ্দেশের খবর পৃথিবী সঙ্গে সঙ্গে পাবে না। সে খবর আসবে তরঙ্গের মাধ্যমে, এবং তা আসতে কিছুটা হলেও সময় লাগবে। ওই ঢেউ-ই মহাকর্ষ-তরঙ্গ। মহাশূন্যে প্রচণ্ড ভারী বস্তুর হঠাৎ নড়াচড়ার ফলে ওই ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।

তবে এতোসবের পেছনের যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। সেই ত্রয়ীকে সম্মান জানালো সুইউশ নোবেল কমিটি। নোবেল কমিটির উপদেষ্টা ওলগা বটনার তো ব্যাপারটা বোঝাতে গিয়ে বলেই দিলেন কেন ওনাদের সম্মান জানানো হলো, বলে দিলেন হলভর্তি দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের সামনেই যে কিভাবে ঐ ত্রয়ী একত্রিত হয়ে কাজ করায় বিশ্বাসী। বিজ্ঞানী রেইনার ওয়েস তো প্রকাশ করে ফেললেন যে – “প্রথম প্রথম এটাকে সবাই ভুঁয়ো ভাবতো, যেটা খুব জেদ চড়িয়ে দিয়েছিলো”! রেইনার ম্যাসাচুসেটস এর গবেষক, তিনি পুরস্কার এর অর্ধেকটা পাবেন আর বাকি অর্ধেকটা শেয়ার করবেন ক্যালটেক এর দুই সহকর্মী ব্যারি সি বরিস আর কিপ এস থ্রোন, তবে এই ত্রয়ীর একটাই কথা ছিলো একদম শেষ পর্যন্ত যে, এতো বড়ো একটা তত্ত্ব খাড়া করতে একজোট হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ধন্যবাদ জানিয়েছেন পৃথিবীর সমস্ত দেশের বিজ্ঞানীদের যারা এই কর্মকান্ডে হাত লাগিয়েছিলেন। আসলে পুরস্কার টা কেনো দেওয়া হয়েছে  সেটা খুব স্পস্ট করেই উল্লেখ করে দিয়েছে রয়্যাল সুইডিশ কমিটি।
“for decisive contributions to the LIGO detector and the observation of gravitational waves” অর্থাৎ নোবেল কমিটি আহ্বান জানাতে চাইছে জোটবদ্ধ হয়ে কঠিন থেকে কঠিনতর কাজ বা তত্ত্ব কে সহজপাচ্য করার জন্য।

FB_IMG_1507037258943
সেই ১৯৭০ থেকে যেটা বিশ্বাস করেছেন, হাজার হাসি মজাক সত্ত্বেও দৃঢ় থেকেছেন। কুর্নিশ রেইনার “LIGO” ওয়েস

 

নতুনভাবে মহাবিশ্বকে দেখার সুযোগ করে দিলো এই আবিস্কার,যদিও অনেকের মতে স্বীকৃতিটা আগের বছরই পাওয়া উচিৎ ছিল এনাদের। তবে এতদিন মহাবিশ্ব এমন এক রঙ্গমঞ্চ ছিলো যেখানে শুধু তরঙ্গের মাধ্যমে নাট্যব্যক্তিত্বদের যাওয়া-আসা ঠয়হর হতো, এবার থেকে খুব সন্তর্পণে তাদের কথাবার্তাতেও কান পাতলে অনেক কিছুই জানা যাবে।

সবশেষে, নমস্কার আবার সেই আইনস্টাইনকে। একশো বছর আগেই যিনি রিলেটিস্টিক থিওরি দিয়ে বলেছিলেন মহাকর্ষ-তরঙ্গের কথা। অনেকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেও, যারা আশার আলো দেখেছিলেন তারা আইনস্টাইনের কথা শুনেগেছেন। সত্যি, ভাঁজ ওয়ালা মস্তিস্কের এই লোকটাকে কে আটকায়?? স্যালুট অ্যালবার্ট দাদু!!!🎓🎓🎓

FB_IMG_1507036965088
মহাবিশ্বকে এতো ভালো করে আর কেউ চেনে নাকি?

#AlbertEinstein

#RainerWeiss #BarryCBarish #KipSThrone #NobelPrize2017 #Physics

#Gravitational_Wave #LIGO

#dS

©শুভঙ্কর দত্ত || October 3, 2017

তথ্যসূত্র:

1. http://www.nobelprize.org

2. https://youtu.be/egfBaUdnAyQ (Sound of two black holes colliding recorded by CALTECH)

3. মিলল মহাকর্ষ-তরঙ্গ, সাফল্যে সঙ্গী ভারত – পথিক গুহ (12/02/2016 আনন্দবাজার পত্রিকা)

 

“দেহঘড়ি” বাজালো নোবেল প্রাপ্তির ঘন্টা

FB_IMG_1506938931752
কুর্নিশ ✌✌

অষ্টাদশ শতক।
জ্যোতির্বিদ জঁ জ্যাকস ডি’অরটাস ডে মায়রান পরীক্ষা চালালেন কতগুলো মিমোসা (mimosa) প্রজাতির উদ্ভিদ নিয়ে, সোজা কথায় লজ্জাবতী টাইপের উদ্ভিদ। দেখা গেলো, দিনের বেলায় পাতাগুলো সজাগ থাকলেও গোধুলিবেলা থেকেই পাতাগুলো ঘুমের দেশে চলে যায়। ভালো!! ভালো!! অতঃপর, দ্বিতীয় পরীক্ষা! কি?
যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে অন্ধকারেই রাখা যায়। রাখা হলো , পর্যবেক্ষণও চললো। কিন্তু ব্যাপার একই। অর্থাৎ উদ্ভিদের এই পর্যায়ক্রমিক ঘুম আর জেগে ওঠার পেছনে সূর্যের আলোর কোন হাত নেই। সুতরাং ওদের নিজস্ব কোনো “Biological clock” আছে।

IMG_20171002_222639
আলো? লাগবে না!

 

****** ****** ***** ***** *****

অন্যান্য গবেষকরা এরপর বিষয়টা নিয়ে মাথা ঘামাতেই বেরিয়ে এলো, না, শুধু উদ্ভিদকূল নয়, প্রাণীদের ক্ষেত্রেও বা আরো ভালো ভাবে বললে মনুষ্যজগতের ক্ষেত্রেও এই “বায়োলজিক্যাল ঘড়ি” উপস্থিত, যা কিনা দিবারাত্রি জুড়ে পটপরিবর্তনের সময় আমাদের বিভিন্ন শরীরি কার্যকলাপের জন্য আমাদের প্রস্তুত রাখে (যেমন দিনের বেলা বেশ কাজ করি কিন্তু রাত্রি হলেই ঘুম পায় কেনো? বা, “জেটল্যাগ” অর্থাৎ বিদেশে গেলেই শরীর আনচান করে ওঠে কেনো?)। এই নিয়মিত অভিযোজন হয়ে যাওয়াকেই “circadian rhythm” বলা হয়, যার উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দযুগল “circa” অর্থাৎ around আর “dies” অর্থাৎ day থেকে, – সুতরাং around the day বা সারাদিন ধরে। ভালো কথা। কিন্তু তখনও পর্যন্ত কিভাবে এই দেহঘড়ি কাজ করে,সেটাই রহস্য।

এরপর ১৯৭০ এর দিকে বিজ্ঞানী বেনজের এবং তার ছাত্র রোনাল্ড কনোপ্কা এই around the day এর জন্য দায়ী জিনটিকে খুঁজে বেড়ালেন। তারা দেখালেন যে এর জন্য দায়ী জিনটি ক্ষনে ক্ষনে পরিব্যাপ্তি ঘটাচ্ছে, তারা নাম দিলেন period। কিন্তু কিভাবে এই জিনটিই বা ঐ ঘটনাটিতে অংশগ্রহন করছে,সেটা জানা গেলো না।
এরপর অবতীর্ণ হলেন এবারের তিন নোবেল প্রাপক।
বিজ্ঞানী জেফ্রি জে হল এবং মাইকেল রসব্যাস একসাথে কাজ শুরু করলেন বস্টনের Brandies University তে, যদিও এই দুই বন্ধুর জুটিটা তৈরী হয়েছিলো বাস্কেটবল কোর্টে এবং বিজ্ঞানী মাইকেল ডব্লুউ ইয়ং নিউইয়র্কের Rockefeller University থেকে কাজ চালিয়ে গেলেন, কিন্তু কিসের তাগিদে? ঐ জিনটাকে আলাদা করে চিহ্নিত করার জন্যে। হল এবং রসব্যাস ঐ জিনটির জন্য দায়ী প্রোটিনটিকে PER নামে চিহ্নিত করলেন, যেটি রাত্রিবেলায় একত্রিত হয়ে যায় এবং দিনের বেলা ছড়িয়ে পড়ে, এভাবেই সারাদিন বা ২৪ ঘন্টা জুড়ে চলতে থাকে Period gene এর কাজ। আসলে আলাদা দুটি দল হলেও জৈবিক ছন্দের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে সেই বছরই একসাথে গবেষণাপত্র প্রকাশ করে বসলেন।

এরপরের কাজ ছিলো,আরো কঠিন, এই জিন কিভাবে কাজ চালায় এবং শুরুই বা হয় কোন পথে!
বলা হলো এই PER প্রোটিন ঐ জিনটির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় বা বাধা দেয়। তারা কারণটাও দর্শালেন, এইরকম, যে এই প্রোটিন নিজেই একটা চক্রাকার পর্যায়ে নিজেদের উৎপত্তিটাকে বাধা দেয় এবং নিরন্তর এক পর্যায়ের মাধ্যমেই।

 

IMG_20171002_222357
পার্টনারশিপ এ মোক্ষলাভ

 

মডেলটি সান্ত্বনাদায়ক হলেও বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। এই প্রোটিন অর্থাৎ PER সাইটোপ্লাজম থেকে কোষের নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ জেনেটিক বস্তুর সাথে লিপ্তই বা হয় কিভাবে? এরপর কাজে এলো তৃতীয় জনের গবেষণা, প্রথম দুজনের প্রায় ১০ বছর বাদ বিজ্ঞানী ইয়ং আবিষ্কার করে বসলেন একটা দ্বিতীয় ঘড়ি-জীন, নাম দিলেন- timeless, যেটা TIM প্রোটিনের কথায় ওঠবোস করে। এই TIM ই PER এর সাথে পার্টনারশিপ করলে তবে গিয়ে কোষের নিউক্লিয়াসের জেনেটিক বস্তুর সাথে মেলবন্ধন ঘটে, ওখানেই period gene এর কার্যক্ষমতায় বাধা দেওয়ার কাজ শুরু। এই রেগুলেটর দিয়ে সহজেই ব্যাখ্যা করা যায় কিভাবে সেলুলার প্রোটিন এই পর্যায়ক্রমিক গতিতে কাজ করে। কিন্তু আবারও প্রশ্নচিহ্ন! এই যে পর্যায়ক্রম, এর ফ্রিকোয়েন্সি কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? আবারও সেই ইয়ং যিনি আরও একখানা জিন কে বেছে বসলেন, নাম হলো doubletime, DBT প্রোটিন যার চালক। তো, এই প্রোটিন PER প্রোটিনের এককাট্টা হওয়ার সময়কে বিলম্বিত করে, এবার এই ধারনা থেকেই পাওয়া গেলো কিভাবে ২৪ টা ঘন্টা জুড়ে দেহঘড়ির এহেন দোলগতি চলতে থাকে!
পরের বছরগুলোতে আরো জানা গেলো তাদের কাজ এবং স্থায়িত্ব নিয়ে। আরো পরে আরো অনেক প্রোটিন এর কথা জানা গেলো যারা period gene কে সক্রিয় করতে সক্ষম এবং কোন আলোর ডাকে ঠিকঠাকভাবে সাড়া দেবে ঐ বায়োলজিক্যাল ঘড়ি।

 

IMG_20171002_222329
২৪ ঘন্টায় দেহঘড়ি

 

একইরকম ভাবে, আমাদের মানবদেহেও এই বায়োলজিক্যাল ঘড়ি অংশগ্রহন করে, – ঘুম, খাদ্যাভাস, হরোমন উৎপাদন, রক্তচাপ এবং শরীরের উষ্ণতা- এইসব কাজই কিভাবে পর্যায়ক্রমে চলবে, তার দায় কিন্তু ঐ দেহঘড়ির ওপরই। Circadian rhythm এ কিভাবে সারাদিন তা চলবে,তা আবিষ্কারের জন্যই The Nobel Assembly at Karolinska Institutet এর পক্ষ থেকে
Jeffrey C. Hall,
Michael Rosbash এবং
Michael W. Young-
তিন জন মার্কিন বিজ্ঞানীর দীর্ঘ তিরিশটি বছরের সাধনাকে কুর্নিশ জানানো হলো শরীরবিজ্ঞান এ নোবেল প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে। প্রাণীদেহের  আপাত রহস্যময় ঘড়ির পেছনের “আণবিক কার্যকলাপ” ফাঁস করে দিয়েই নোবেল পেলেন ত্রয়ী।
আগের বারই ইওশিনোরি ওসুমি পেয়েছিলেন “অটোফাগি” র জন্য। এবারেও সেই পথেরই খানিকটা বিস্তারের মতোই। তবে এই আবিষ্কার চিকিৎসাজগতে যে প্রভাব বিস্তার করবে তা বলাই বাহুল্য!
neurodegenerative diseases, metabolic disorders  and inflammation এসব ক্ষেত্রে একরমের প্রাথমিক শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রম তারা আবিষ্কার করেই ফেলেছেন। এখন শুধু বাকি pharmacology এর দিকটা। ব্যস্, তাহলেই কেল্লাফতে।

তথ্যসূত্র: http://www.nobelprize.org

#nobelprize #medicine #physiology
#karolinska

#dS
©শুভঙ্কর দত্ত || October 2, 2017

“স্পর্শ” – লেগে থাকবে, থাকবেই…

IMG_20171002_093353
এই “স্পর্শ” লেগে থাকবেই!

 ৩৭/২ প্রিয়নাথ বোস লেন। শ্যামবাজার।

উপন্যাসের যাত্রা শুরু।

১৪২২ এ সম্ভবত আনন্দবাজার পত্রিকা শারদীয়া তে “প্রজ্ঞাসূত্র” দিয়ে শুরু। আমার পড়া,তার আগে কিছু পড়েছি কিনা মনে নেই, গল্প বাদে অবশ্য। গল্প বা ছোটগল্প কি আর অ্যাদ্দিন মনে থাকে! থাকে না, বা সেরকম হয়তো দাগ কাটতে পারেনি।

এবার আবার বহুদিন বাদ শারদীয় দেশ এ “স্পর্শ”! যদিও রবিবাসরীয় আনন্দবাজারে ধারাবাহিক উপন্যাসের সৌজন্যে অনেকেই হয়তো এখন চেনেনই। “অচেনা স্রোত” এর লেখক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কথা বলছি।  এই ধারাবাহিকের একদিনও আমি পড়িনি ঠিকই, কিন্তু গুগল ড্রাইভের প্রতি রোববারের কাগজ যতনে সাজানো আছে। এককাট্টা করেই পড়বো, আর কি!
যাই হোক, ভালো জিনিস পড়লে বা দেখলে কি হয়? না প্রতিক্রিয়া জানাতে ইচ্ছে হয়, আর সেটা স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই।
বস্তুত “শারদীয় দেশ ১৪২৪” এই প্রথমবার কিনলাম, তাও কেবলমাত্র শীর্ষেন্দুর নাম দেখে, এটা বলা দেড়চালাকি বই কিছু নয়। সেই যে “প্রজ্ঞাসূত্র” দিয়ে যাকে চিনেছিলাম, জেনেছিলাম, তার নামও যে আছে।

এ উপন্যাসেরর পটভূমি খুব বেশি দিনের নয়। একদম হালফিলের কলকাতা। তবে উপন্যাসের কাহিনীর পটভূমি সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অধুষ্যিত ইউরোপ, বলা ভালো ইহুদী সম্প্রদায়-জার্মানি-হিটলার-পোল্যান্ড-ডেনমার্ক এবং অবশ্যই চার্চিলের ইংল্যান্ড।

**********************************

যাই হোক্, ইলিয়ানা নামের একজন জার্মান ইহুদী এক ভারতীয়ের নামে অগাধ টাকা পাঠিয়েছেন এবং সেই টাকা কিভাবে ভাগ বাঁটোয়ারা হবে মৃত প্রাপকের পরিবারের লোকজনের মধ্যে, সে নিয়েই এই উপন্যাস। জার্মান এমব্যাসি থেকে জলদি রিপোর্ট তলব করা হয় সে বিষয়ে, কলকাতার এক ল ফার্ম সার্ভিসে।

কিন্তু প্রফেশনাল না থাকতে পেরে ঐ ল ফার্মেরই জরিনা আটকে যায় মানবিকতার খাতিরে, সহযোগী তিতলী কে নিয়ে, ঐ অফিসেরই বস তন্ময় ব্যানার্জীর কথায় জটিলতার সত্য নিরসনে উৎসাহী হয়ে ওঠে। এই কাহিনীর নায়ক যদি বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ফ্লাইং অফিসার হিরণ্ময় হালদার হন, তবে নিঃসন্দেহে এ গল্পের নায়িকা জরিনা ইসমাইল, যার মন বারবার প্রফেশনাল এর গন্ডি ছেড়ে সত্য অণুসন্ধানের চেষ্টা চালিয়েছে, ‘দিমাগ কি বাত না’ শুনে দিল কি বাৎ শুনেছে।
অসাধারণ এই উপন্যাস এর প্রতিটা চরিত্র বড্ড জীবন্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জরিনা-তণ্ময় ব্যানার্জি-তিতলী-মালতী-বিশ্বজিৎ-হিরণ্ময় হালদার-্শ্যামল দত্ত! লিপিকা-অর্পন, রশিদ ইসমাইল , মানস ভৌমিক ততটা জীবন্ত না হলেও প্রাণবন্ত। তবে যার নাম ভুলে গেলও, কাম ভোলা মুশকিল, সে হলো তিতলীর শ্রীরামপুরবাসী বন্ধু তীর্থ। ল ফার্মের পক্ষ থেকে ছোট্ট ধন্যবাদ জানালেও, আমার পক্ষ থেকে একটা বড়োসড়ো অভিবাদন জানালাম লেখকে, এরকম একটা পার্শ্বচরিত্রকেও বেশ প্রকট করে তোলার জন্য, এ যেন সেই টেলএন্ডারদের ব্যাট থেকে রান পাওয়ার মতো আনন্দ,যেটা সচরাচর টিমের ক্যাপ্টন পেয়ে থাকে।
***************************
কৃষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে বরাবর যে জন্য খুব ভালো লাগে, সেটা হলো, ওনার উপন্যাসটা ঠিক কি রকম, সেটা বুঝতে দেন না, একটুকুও। সেই “প্রজ্ঞাসূত্র” থেকেই একটা জিনিস লক্ষ্য করে আসছি, কিভাবে একটা দারুণ উপন্যাস কে হালকা রহস্যের তুলি চালানো যায়, আর এর মাঝেই কখন কিভাবে যে কয়েকটা চরিত্র অনামি গোয়েন্দা হয়ে যায়, কে জানে!! বলা ভালো সত্যান্বেষী!   এটা অভূতপূর্ব লাগে। তারপর এ কাহিনীতে বারবার যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানি-হিটলার-নাৎসীবাহিনী- কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প এসব পড়তে পড়তেই ‘Boy in the stripped payjamas’ এর কথা মনে পড়ে যায়। পালানোর ফন্দি পড়লেই মনে চলে আসে “The Shawshank Redemption ” এর অ্যান্ডির কথা। তুরস্কের বদ্রুম উপকূলে লাল জামা পরা আয়লান কুর্দি নামে শিশুটার উল্লেখ বারবার সে দৃশ্যকে মনে করিয়ে দেয়, তেমনই মনে করিয়ে দেয় অনুরাগ কাশ্যপ বা টারান্টিনো কে, কাল্পনিক কাহিনীর মধ্যে কিভাবে বাস্তব ঘটনা ঢুকিয়ে দেন, গল্প বলার ছলে। এই জায়গাটায় পাঠকমনে আলোড়ন তুলবে, নিঃসন্দেহে।
অসামান্য এই উপন্যাসে তো অস্কার শিন্ডেলার্স এর কথা উল্লেখ আছেই, যদিও পড়তে পড়তে আগেই “Schindler’s list ” এর কথা মনে পড়ে যায়। জার্মান হয়েও হাজার হাজার ইহুদি কে যিনি বাঁচিয়েছিলেন।

IMG_20171002_094118
“Schindler’s’s List” এর কথা মনে পড়তে বাধ্য, এই ছবি দেখলে

মনে পড়ে যায় The Pianist এর কথা। লেখককে অসংখ্য কুর্নিশ জানানোর আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রায় ৭০ বছর পরেও একটা কাহিনীকে ব্যাকগিয়ার রসদ জুগিয়েছেন, যে পুরোটা এক টানে না পড়লে সব ভণ্ডুল হয়ে যায়। তারপর পড়তে পড়তে উপন্যাসের নামকরণের কারণ খোঁজা,একটা স্বভাবসিদ্ধ গোয়েন্দাগিরি আমাদের, সত্যিই তো একটা “স্পর্শ” কি করতে পারে, কত কিছু মনে থাকতে পারে একখান্ স্পর্শের জেরে!!! সত্যিই এই “স্পর্শ” শুধু ইলিয়ানার হৃদয়ে নয়, পাঠকের মনেও অনুভূত হবে, শুধু আবার অনুভূতই হবে না, এ আলেখ্য পড়ার পর বহুদিন জীবিত থাকবে, যেমনটা বছর দুই আগে হয়েছিলো, “প্রজ্ঞাসূত্র” পড়ে।

***লেখককে আরো ধন্যবাদ জানানোর প্রয়োজন আছে, মাঝে মাঝেই প্রিয় গালিব মিঞার শায়ারি “শেয়ার” জন্য। সত্যি বলতে কি, এক ফোঁটা বিরক্তি লাগোনি, পড়তে পড়তে তাই টুকেও রেখেছি নোটপ্যাডে। এই ক্ষুদ্র পাঠককে তো গালিবের ফ্যান করে দিয়েছেন, যে শুধু আয়ুষ্মাণ খুরানার গাওয়া “Dil-E-Nadan” ছাড়া অন্যকিছু ভালো ভাবে জানতই না, এটা গালিবের।

IMG_20171002_121052
‘গালিব’ কে প্যায়ার মে

উপন্যাসটি বই আকারে প্রকাশিত হলে সংগ্রহে তো রাখবই। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে রৌদ্র মিত্রে তুলির টান এ উপন্যাসকে আরো প্রাণ জুগিয়েছে বলে মনে করি, বেশ ভালো লেগেছে। একটা ভিজু্য়ালাইজেশন খুব দরকার, আর তাতে যেমন নাৎসী নিয়ে দেখা সিনেমাগুলো সাহায্য করে, তেমনই এই ছবিগুলো আরো বেশি সাহায্য করে, সবাই তো আর ফিল্মগুলো দেখেননি।


যাই হোক্, শীর্ষেন্দুর “ঘটনাক্রমে” পড়ে যতটা হতাশ হয়েছিলাম, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের “স্পর্শ” তা পুষিয়েদিয়েছে এবং এতোটাই ভালো ভাবে যে এখন আর পরের টাই মনোনিবেশ করার ইচ্ছেটুকুও নেই।

★★★★★★

তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, যেটা একটু অযৌক্তিক এবং বেনিয়ম লাগলো!
মৃত কোন ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট পরিবারের লোক ছাড়া অন্য কাউকে দেওয়া হলো কিভাবে? কোন রকম অন্থেটিসিটি ছাড়াই? এটা একটু নিরসন করে দিলে, উপকৃত হই।

 

#স্পর্শ #কৃষ্ণেন্দু_মুখোপাধ্যায়

#শারদীয়_দেশ_১৪২৪ #dS

©শুভঙ্কর দত্ত || October 2, 2017

 

গুগলের বদান্যতায়

IMG_20170923_150354
Google’s honorary doodle on 100th Birthday of Asima Chatterjee.

 

অসীমা চট্টোপাধ্যায়!

 

নামটাই জানতাম না অ্যাদ্দিন!
তাই এই শিরোনাম শিরোধার্য করতে একরকম বাধ্য হতে হলো।
এবার একটু একটু বলা যাক।
কে ইনি? কেনই বা গুগলের অব্যবহিত পরে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল সংস্করণ এটা নিয়ে উদগ্রীব!

*****************************

আজ ২৩ শে সেপ্টেম্বর। বিখ্যাত এই বিজ্ঞানীর জন্ম শতবর্ষ আজ। ব্রিটিশ অধিনস্থ ভারতবর্ষে যেখানে মেয়েদের বিজ্ঞানচর্চা মোটামুটি বিরল ছিলো, সেখানে ইনি রসায়নে শুধু স্নাতক বা স্নাতকোত্তর এর গন্ডিই পেরুলেন না , উপরন্তু এমন কিছু অতি সাধারন এবং পরিচিত গাছগাছড়া নিয়ে গবেষণা করলেন, তাতে খানকতক বোটানিস্টও দিনটিকে সেলিব্রেট করলে বোধ হয় ভুল হয় না!

অসীমা চট্টোপাধ্যায়
সীমা নেই যার! নামেই সার্থকতা।

 

♦ স্কটিশচার্চ থেকে স্নাতক এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে তিনি মনোনিবেশ করলেন গাছ গাছড়া সম্পর্কিত গবেষণায়। কোন এক অজ্ঞাত কারণেই উদ্ভিদকূলের “উপক্ষার” তাঁকে ভাবিয়েয়ে তোলে, সেই সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এ গবেষণা করার সময় তিনি মেন্টর হিসেবে পেয়েছিলেন সত্যেন বসু এবং প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এর মতো স্বনামধন্য বিজ্ঞানীদের । এছাড়াও উইনকনসিন, ম্যাডিসন এবং কালটেক এর মতো বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় এ গবেষণার অভিজ্ঞতা ও ছিলো এই মহিয়সী বিজ্ঞানীর।

*** যাই হোক, তার গবেষণাগুলি তাঁর জীবদ্দশাতেই বেশ ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছিলো, মৃগীরোগ এবং ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক এর পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তবে যে কথা না বললেই নয়, তাঁরর সবচেয়ে বড়ো অবদান ‘vinca alkaloids’ থেকে অর্থাৎ মাদাগাস্কার পেরিউইঙ্কল ( Madagascar Periwinkle) এর উপক্ষার নিয়ে রিসার্চ, যা পরবর্তীকালে ক্যান্সার নিরাময়ের ড্রাগ প্রস্তুতি বা কেমোথেরাপিতে সদর্থক ভূমিকা পালন করে।

DSC_0147
Periwinkle এর প্রজাতি

 

♣  এবার কি এই মাদাগাস্কার পেরিউইঙ্কল? মাদাগাস্কার, সে তো আফ্রিকাতে অবস্থিত। আসলে আমাদের বাড়ির চারপাশে পাহারাদারের মতো ভঙ্গিমায় যারা সারাবছর উপস্থিত থাকে, সেই ‘নয়নতারা’ নামের আগাছারই কোনো এক প্রজাতি হলো periwinkle. গুগলে Madagascar periwinkle লিখে সার্চ করলে বাড়ির সামনে ফুটে থাকা নয়নতারা গোটা স্ক্রিন জুড়ে চলে আসবে। এখন অনেকের মনে হতেই পারে, তুচ্ছ এই আগাছাসম গাছ কিভাবে ভদ্রমহিলার নজর কাড়লো! সেটা যদিও বড়ো কথা নয়। কিন্তু ঐ যে, তাই তো উনি বিজ্ঞানী!

 

IMG_20170910_173113_HDR
জানিনা, এটাই কিনা! গুগলে খুঁজলেই এটার ছবি দিচ্ছে। এই ‘নয়নতারা’ ই মাদাগাস্কার Periwinkle

–তাই উনি Premchand Roychand Scholarship পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।।

– তাই উনি প্রথম মহিলা হিসেবে ভারতীয় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সায়েন্সে পি.এইচ.ডি সম্মান পেলেন(এটা যদিও একটু ঘেঁটে দেখতে হবে), তবুও প্রথম না হলে দ্বিতীয় তো হবেনই। আসলে উইকি অন্য কথা বলছে। সালটা ১৯৪৪।

— শুধু কি তাই! প্রথমবার শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার দেওয়া হলো ১৯৬১ তে। সেটাও পেলেন অসীমা চট্টোপাধ্যায়।

— ১৯৭৫ এ ন্যাশনাল কংগ্রেস সায়েন্সে অ্যাসোসিয়েসনে একমাত্র এবং প্রথমবারের জন্য মহিলা বিজ্ঞানী হিসেবে ডাক পেলেন।
সেই বছরই ভারত সরকারের তরফ থেকে পদ্মভূষণ।

— এরপর ভেষজ উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি.এস.সি পেয়েছেন। যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই ভারতবর্ষকে উপস্থাপন করেছেন স্বমহিমায়।

— ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি দ্বারা নির্বাচিত হয়ে রাজ্যসভার সদস্যা।
এনার প্রচেষ্টাতেই লেডি ব্রেবোর্ণ কলেজে রসায়ন বিভাগ চালু হয় এবং তিনিই সেখানে সেই বিভাগের অধ্যাপিকা হয়ে যান। বাকিটা তো ইতিহাস! পরে অনেক হবু রসায়নবিদকে হাতে ধরে গবেষণা শিখিয়েছেনও।

না জানতাম নাম! কাম তো দূর কি বাৎ।
আজ “গুগলের বদান্যতায়”, কিছুটা সুরাহা।
থাংকু গুগল।
মহিয়সীকে প্রণাম, এই অল্প কেমিস্ট্রি জানা পোলাডার পক্ষ থেকে।

তথ্যসূত্র:: গুগল অবশ্যই।

(নয়নতারার ছবিজোড়া এই অধমের, আর বিজ্ঞানীর ছবিটি গুগলের থেকে ধারকরা)

#dS

#AsimaChatterjee

©শুভঙ্কর দত্ত || September 23, 2017