নগরকীর্তন – বাঁচার অধিকার ওদেরও…

সিনেমাটা কেন দেখতে চান?
‘নগরকীর্তন’ এর দুটো টিকিট চাইতেই টিকিট কাউন্টার থেকে ইন্টারভিউসম প্রশ্ন ধেয়ে এলো….
বাংলাসহ সারাভারতে আলোড়ন করা বিশেষ এই সিনেমা দেখতে চাওয়া দুই বন্ধুকে এক বৃদ্ধের এই প্রশ্ন।

বললাম – ‘কৌশিক গাঙ্গুলি আমার প্রিয় পরিচালক…..! একটু ইয়ার্কি মেরেই বললাম, বাকিটা দেখে এসে বলি…!
ভদ্রলোক হাসলেন।
বললেন শুধুই এই কারণ….?

বললাম — না আসলে ঋদ্ধি কেও ভালো লাগে, সেই ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’ থেকেই ফ্যান!
বললেন — ‘কৌশিক গাঙ্গুলি প্রিয় পরিচালক, ঠিক আছে, কিন্তু আমার মনে হয় উনি নিজেকে ঋতুপর্ণর জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছেন!’

টিকিট কাটা হলো৷
আসলে একটা পরীক্ষা পড়েছিলো কলকাতায়, দুই বন্ধু মিলে ট্রেনে আসতে আসতেই একটা প্ল্যান মাথাচাড়া দেয়, আর পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ১ কিমি দূরত্বে সিনেমাহলে ‘নগরকীর্তন’ চলছে। সুরজিৎ বললো – ‘এ সুযোগ হাতছাড়া করলে অ্যাচিভমেন্ট বলে কিছু থাকবে…?’ এরকম গোছেরই কিছু। অতএব, চলো, এগিয়ে যাওয়া যাক্। ব্যস্ ‘মিত্রা’ দাঁড়িয়ে আছে!

টিকিট তো কাটলাম, দেড় ঘন্টা বাকি এখনো। এদিক ওদিক ঘুরছি, কিন্তু বৃদ্ধের শেষ কথাটা তখনও মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, সিনেমাটা দেখতেই হবে, অতিশয় আগ্রহকে সঙ্গী করে।

——————————————————————
সিনেমা শুরুর আগে কিছু কথা উঠলো।
এই গল্প সেইসব প্রেমের গল্প, যে গুলো আর পাঁচটা প্রেমের মতো নয়।
ভেসে উঠলো Tributed To…. কে হতে পারে? আরে, নান্ আদার দ্যান ঋতুপর্ণ ঘোষ…!
ছবির নীচে ইটালিক্সে লেখা
“পরজনমে হইও রাধা….”
বুঝতে বাকি রইলো না। সদ্য ‘সমান্তরাল’ দেখেছি৷ কৌশিক গাঙ্গুলিও আগে ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ বানিয়েছিলেন, মুখ্য অভিনয়ে ছিলেন স্বয়ং ঋতুপর্ণ৷ তবে কৌশিক গাঙ্গুলি সাহসিকতার পরিচয় দিলেন। সত্যিই তো সিনেমাটা কেন দেখতে যাবো?
‘ছোটোদের ছবি’, ‘সিনেমাওয়ালা’, ‘শব্দ’ কেন দেখতে গিয়েছিলাম বা কেন দেখেছি?
কারণ উনি অন্যদের কথা বলেন, অন্যকিছু বলেন, সবাই যেটাকে নিয়ে ভাবেন না, যাদের নিয়ে ভাবেন না, উনি তাদের কথা তুলেই ধরেন। তাই…….! এটা অবশ্য বৃদ্ধকে বলা হয়নি৷

পরিমল-পরি-পুঁটি (ঋদ্ধি সেন) এই গল্প একদিকে চলতে থাকে, আর একদিকে….পুঁটির প্রেম চলতে থাকে, প্রেমিকের ওপর ভরসা করে চলতে থাকে জলে থেকে কুমীরের সাথে লড়াই করার অব্যহতির খোঁজ। শৈশব থেকে মনের মধ্যে পুষতে থাকা নারীত্বটাকে বাঁচিয়ে রাখতে তার আবদার — “শরীরে ভুল আছে মধুদা (ঋত্বিক চক্রবর্তী) , শুধরে নিতে হবে….!”
সমান্তরালভাবে দুটো গল্প বলায় একটুও বোরিং লাগেনি, ততটাই সাবলীল লাগলো শুভজিৎ সিংহের কাঁচি চালালনোটা, অবশ্য আগেও ‘ছায়া ও ছবি’, ‘মাছের ঝোল’, ‘বিসর্জন’, ‘শব্দ কল্প দ্রুম’ এর মতো সিনেমাগুলিতে একই কাজ করেছেন।

বহুদিন আগে স্বপ্নময় চক্রবর্তীর ‘হলদে গোলাপ’ পড়েছিলাম, বেশ লেগেছিলো, সিনেমাটা দেখতে দেখতে বেশ ওটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিলো। যদিও সেখানে গল্প ভিন্ন। তবে সেই উপন্যাসের একজনের উল্লেখ ছিলো বারবার, সিনেমাতে দেখি স্বমহিমায় তিনি উপস্থিত – মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়, পরিচালকের মুন্সীয়ানা চোখে পড়লো, সোমানাথ থেকে মানসী হওয়ার লড়াই – গল্প সবকিছু বলিয়ে নিলেন তার মুখ দিয়ে, শুধু তাই নয়, বলিয়ে নিলেন – শ্রীচৈতন্যদেবের শ্রীকৃষ্ণভাবে মজে যাওয়ার ঘটনাটা তার মুখ দিয়ে বলিয়ে নেওয়ার ফলে সিনেম্যাটিক ভ্যালু বেড়ে যায় বলেই মনে হয়৷

সিনেমার দৃশ্যপট এতো বাস্তব যে চেনা ছকের বাইরে বেরিয়েও এই সিনেমা হওয়া সত্ত্বেও বারবার মনে হচ্ছিলো এটা বোধ হয় খুব সহজ একটা ঘটনা৷ মধুদের পৈতৃক বাড়ি – নবদ্বীপ, যেখানে চিত্রনাট্য পৌঁছানোর পর থেকেই একটা ক্ষীণ উৎকণ্ঠা সঞ্চারিত হতে বাধ্য দর্শকদের মনে, যেটা তীব্র হয়, যখন দোলপূর্ণিমার আসরে মধু বাঁশি বাজায়, আর পুরুষরূপী নারীমনের পুঁটির আসল রূপ আচমকাই প্রকাশিত হয়ে যায়।

এরপরও আরো ঘটনা……! ঘটতেই থাকে….! শেষ আধ ঘন্টা দর্শকদের শিরদাঁড়া সোজা করে দিতে বাধ্য, ভাবাতে বাধ্য। সিটে আরাম করে বসে থাকা ঘুচিয়ে দিতে সফল এই সিনেমা। ওয়াটসআপ-ফেসবুকের মাধ্যমে কিভাবে কোনো ঘটনা ভাইরাল করা যায় তা দেখাতেও ছাড়লেন না। ‘নগরকীর্তন’ নামটা বেশ ব্যঞ্জনধর্মী বলেই মনে হলো, নগর বা সমাজে চলতে থাকা অহরহ ঘটনাপ্রবাহগুলোকেই বলা হচ্ছে এখানে।
ঋদ্ধি সেন কেন জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে, তার সদুত্তর মিলবেই, কস্টিউম-মেক আপের সাথে যেভাবে পরতে পরতে নিজেকে খাপ খাইয়েছেন, অসাধারণ….! (তাই দুটো জাতীয় পুরস্কার কস্টিউম আর মেকআপে, নগরকীর্তনের ঝুলিতেই) সাথে আবার ঋত্বিক থাকলে তো পাশের লোককে ভালো অ্যাক্টিং করতেই হবে….! আর্ট ডিরেকশন প্রশংসনীয়। কীর্তনের সাথে যেভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন বাঁশিকে, অনেক দুঃখের মাঝে একটা আনন্দের চোরাস্রোত বয়ে যায় দর্শকের অলিন্দ বেয়ে…..! সৌজন্যে – প্রবুদ্ধ ব্যানার্জি….! ভালো লেগেছে সুজন মুখার্জি ওরফে নীলকে, মধুর বৌদির চরিত্রে বিদিপ্তা চক্রবর্তী যতক্ষণ ছিলেন ফাটিয়ে দিয়েছেন, বিশেষ করে তার শেষ দৃশ্যটা৷

মন ছুঁয়ে যায়, কীর্তনের মাধ্যমে বলা – “তুমি আমারই মতন জ্বলিও…” এই অকপট কথা শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে….! রাধার প্রেমে মজে নিজেকেই রাধারাণী করতে উদ্যত।

সবশেষে বলতেই হয় কৌশিক গাঙ্গুলি আবারও একবার প্রমাণ করে দিলেন নিজেকে। অভিনয়ও করিয়ে নিলেন তাদের দিয়ে। ওনারা আশাবাদী এ সিনেমা দেখার পর মানুষজন তাদের হয়তো এতেটা অবজ্ঞা করবেন না। যাদের একঘর করে রাখে সমাজ, তিনি বারবার তাদের উপস্থাপিত করে গেছেন, বলে গেছেন সমাজকে পাল্টে নিতে ভাবধারা, কয়েকজনের বাঁচার মতো সমাজ কি আমারা গড়তে পারিনা, শ্রেনীশত্রু সৃষ্টি করে নিজেদের নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ দেওয়ার কোনো মানেই হয় না…!
হলের টিকিট কাউন্টারের বৃদ্ধ মানুষটির দোষ খুঁজে পেলাম না বিশেষ, কারণ এ সিনেমা সবার জন্য নয়, কৌশিক গাঙ্গুলি বলেইছিলেন, এ সিনেমা রোজগারের জন্য বানানো নয়, এগুলো বানানোর পেছনে কিছু উদ্দেশ্য থাকে। বৃদ্ধ মানুষটি হয়তো বোঝেননি….কবেই বা বুঝবেন।

কবেই বা বুঝবেন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় কেন আছেন এ সিনেমায়, কেন উৎসর্গ করার জায়গায় ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবির নীচে লেখা

‘পর জনমে হইও রাধা…..’

© শুভঙ্কর দত্ত || February 25, 2019 

দৃষ্টি-(সম্পর্ক)-কোণ

বাবা, কাছিম মানে কি?
— কাছিম মানে কচ্ছপ!
আর জিজীবিষা মানে?
— মাকে জিগ্যেস করো!
অতঃপর…..
যাই হোক্
কৌশিক গাঙ্গুলির আবার একটা সিনেমা হলে দেখে নিলাম। আগে দেখেছিলাম “বিসর্জন”!
এবার দৃষ্টিকোণ।

প্রথমেই বলে রাখা ভালো আমি রিভিউ লিখতে বসিনি। আমি আমার ভালো লাগা আর খারাপ লাগাগুলো বলতে এসেছি।
তবে সব কিছু বলার আগে একখানা বিধিসম্মত সতর্কীকরণ লাগেই, সেটা হলো
এক, এই সিনেমাকে প্রসেনজিৎ – ঋতুপর্ণার কামব্যাক সিনেমা “প্রাক্তন” এর সাথে বারবার লড়াই চালাতে হবে…
দুই, কৌশিক গাঙ্গুলির ঘরানার ছবি এটা নয়ই, যদিও তিনি এর আগে রোম্যান্টিক থ্রিলার বানিয়েছেন, “বাস্তুশাপ”! কিন্তু ফ্যামিলি মেলোড্রামা কে কেন্দ্র করে নয়।

সিনেমা শুরু হচ্ছে একটা মৃতদেহ দিয়ে। তারপর গল্প এগিয়ে চললো, আইনজীবি জিওন (প্রসেনজিৎ) এর কাছে সাহায্যপ্রার্থী শ্রীমতি (ঋতুপর্ণা), স্বামী পলাশ (কৌশিক সেন) মারা গিয়েছিলো বছর দুই আগে একটা অ্যাক্সিডেন্টে! না, নামটাই ওরকম। আমার কেন জানিনা মনে হয়েছে, পরিচালক চরিত্রের নামগুলোকেও দেখেশুনেই রেখেছেন। কলকাতার বাহা বাহা উকিল থাকতে জিওন মিত্রকেই কেন! সে প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে হলমুখী হতেই হবে!
তবে এই সিনেমা দেখে বেরিয়ে আসার পর বারবার কয়েকটা জিনিস নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বে কুচকাওয়াজ হতে পারে, যেমন- সিনেমাটায় আদৌ গল্প আছে? জিওন মিত্রের একটা চোখ সেরে গেলো বহু বছর বাদ, সেই কথাটা পরিচালক এতো জলদি দর্শককে না বলতেই পারতেন। আসলে এই প্রশ্নগুলো যে উঠছে, এটাই কোথাও যেন বলে দিচ্ছে, সিনেমাটা উতরে গেছে, কেজি পাস এ যাত্রায়। আসলে পরিচালক গোটা সিনেমাতেই একটু একটু আভাস দিয়ে যাচ্ছেন, এই বুঝি গল্প বাঁক নেবে, একবার তা নিলো অবশ্য। যখন প্রীতম (কৌশিক গাঙ্গুলি), মৃত পলাশের দাদা আর তার বাড়ির আয়া উমাকে দেখা যাবে ঘনিষ্ঠ মুহুর্তে। তারপর থেকেই একটা তুমুল উত্তেজনা কাজ করবে আবার কখন গল্প বাঁক নেয়।

এতো গল্পের মাঝে জিওনের অর্ধাঙ্গীনী রুমকি (চূ্র্ণী) আর জিওনের সম্পর্কের মাঝে শ্রীমতী সেনের ট্রেসপাসিং, যা দিয়ে গল্পের বুনন চলবে কিছুক্ষণ। একসাথে দু আড়াই পিস গল্প সমান্তরালভাবে চলতে চলতেই একসময় ক্লাইম্যাক্সে আসবে সিনেমা। সত্যি বলতে কি, দর্শকদের বসিয়ে রাখাতে সফল হয়েছেন কেজি।
পরকীয়ার গল্পের মাঝে মাঝেই থ্রিলারের হালকা বাতাস গায়ে লাগতে পারে, অবশ্য তা কতটা থ্রিল সেটা বলা মুশকিল। কারণ এর চেয়ে ঢের বেশি থ্রিলার কেজির ‘জ্যাকপট’ বা ‘খাদ’ সিনেমায় আছে!

অভিনয় নিয়ে কিছু না বলায় ভালো। কে নেই? তবে কিছু দৃশ্যে ফ্যামিলি মেলোড্রামা দেখলেই ‘প্রাক্তন’ এর কথা মনে পড়বে, তবে হ্যাঁ, এখানে অপরাজিতা আঢ্যের মতো কেউই নেই। অতএব অভারঅ্যাক্টিং নেই। যতটুকু আছে ফ্যামিলি মেলোড্রামা, পুরোটাই মানানসই এবং গল্পের খাতিরে করা, এমনটাই লেগেছে।
কৌশিক গাঙ্গুলি কতটা ভালো পরিচালক তা জানতে বাঙালি অনেক দেরী করেছে তো বটেই, তবে কতটা ভালো অভিনেতা সেটা আর জানতে বাকি রইলো না, যারা অবশ্য ‘বিসর্জন’ এ ওনার অভিনয় দেখে মুগ্ধ, তারা হয়তো ‘কাঙাল মালষাট’ বা ‘ল্যাপটপ’ দেখেননি। “বিসর্জন” এর আগে তার কটা সিনেমা আম বাঙালি দেখেছে, তা সন্দেহ আছে, তার জন্য অবশ্য জিও-ডিজিটাল-লাইফ অনেকটা দায়ী। “ছায়া ও ছবি” র পর “দৃষ্টিকোণ” দিয়ে কেজি নিজের ঘরানা পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন।
সিনেমাটার সবচেয়ে ভালো জিনিস কি?
এডিটিং! অবশ্যই! সৌজন্যে – শুভজিৎ সিংহ।
‘বাস্তুশাপ’, ‘বিসর্জন’, ‘ছায়া ও ছবি’, ‘খোঁজ’, ‘মাছের ঝোল’, আর ডেবিউট করেন ‘ধূমকেতু’ দিয়ে, যদিও সেই সিনেমা রিলিজ করেনি।

কেন বললাম যে এডিটিং সবচেয়ে ভালো?
তার কারণ গানগুলোর সাথে দৃশ্যগুলোর সিঙ্ক্রোনাইজেশন। এতো ভালো সিংক বহুদিন চোখে পড়েনি। গান গুলোর ভাষাগুলোও তাই বোধগম্যহতে সহজ হয়। এদিক দিয়ে আবার গোপী ভগৎ এর ক্যামেরার কারসাজিকে বাহবা না দিয়ে উপায় নেই। রাজা নারায়ণ দেব যে সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিসিয়ান, সে কথা দর্শক বেমালুম ভুলেই যাবে, সিনেমার গান শুনে।
চারটে গান আছে- আপাতত কোনটাই প্লে লিস্ট থেকে সরাতে পারছিনা, কারণ – প্রত্যেকটা গানের ভাষা, সৌজন্যে – অনুপম রায়, যেমন – “আমি তোমায় খুব বিরক্ত করছি”!  কেজির ফিল্মের গান এমনিতেই দারুণই হয়।  তবে প্রত্যেকটা গানের সাথে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বানানো দৃশ্যের সিঙ্ক্রোনাইজেশনে আমি অন্তত মুগ্ধ। 

সিনেমার গল্প খুব দুর্বল নয়। আসলে সব কিছু বলে দিয়ে তারপর ব্যাখ্যা দেওয়া, এটাও তো এক রকমের বাজিমাৎ। তাই কেন “দৃষ্টিকোণ”? সে কথা জানতে হলে দেখতে হবে। এ সব সিনেমার ডায়লগ নিয়ে বেশি কিছু বলা যায় না, কারণ ডায়লগের ওপরেই পুরোটা দাঁড়িয়ে। তবু ডায়লগের কথা বললেই আবার “বিসর্জন” এর সাথে তুলনা আসতে পারে।

ও হ্যাঁ, জিজীবিষা মানে Urge To Live মানে বেঁচে থাকার ইচ্ছা! যা দিয়েই গল্পের শেষ। বেঁচে থাকা আর না থাকা নিজের ‘দৃষ্টিকোণ’ থেকে।

তবে সব কিছু ছাড়িয়ে কেজির ঘরানার সিনেমা না ভেবে এই সিনেমা দেখতে গেলে অনেক কিছুই পাওয়া যাবে,
আর উপরিপাওনা হিসেবে প্রসেনজিৎ – ঋতুপর্ণার বহুপ্রতীক্ষিত চুম্বন এর দেখা মিলবে…!

 

এক সাথে অনেক দর্শক মিলে বাংলা সিনেমা দেখলাম বহুদিন পরে। সিটে বসে থাকার পর দেখি আস্তে আস্তে অর্ধেক ভর্তি হলো। তাহলে কি লোকজনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালো?

©শুভঙ্কর দত্ত || May 4, 2018