‘অক্ষয়’ অনুভূতি

“মানুষের কতরকমের যে উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রয়োজন৷ আর এতো অক্লান্ত উদ্ভাবনী শক্তি আছে বলেই এত উলটোপালটা প্রয়োজন।”

— অক্ষয় মালবেরি পড়া শেষ করলাম।

এমন উপন্যাস পড়তে পারলে দারুন আরাম লাগে।মনের…! প্রশান্তি, বলা ভালো।  আমাদের মানুষদের একটা দারুন মিল প্রায় সবার মধ্যেই রয়েছে সকলেই জীবনে একবার হলেও শৈশবে ফিরে যাওয়ার বাসনা প্রকাশ করে। হয়তো একাধিকবার!
শৈশবে ফিরে যাওয়া তো সম্ভব নয়৷ কিন্তু বই পড়তে পড়তে তেমন স্বাদ যদি মেলে….!

প্রকৃতি যেখানে মানুষের রূপ পায় আর মানুষের মধ্যেই প্রকৃতির সৌন্দর্য – মণীন্দ্র গুপ্ত কি স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে বইটি পড়িয়ে নিলেন। আহামরি উৎকণ্ঠা অনুভব করিনি পড়তে পড়তে তবুও মনে হচ্ছিলো যে এ বই যত জলদি শেষ করবো তত জলদি জানতে পারবো লেখকের কি গতি হলো!

পার্থিব জগতের বস্তুগুলির তুলনাগুলি কি সুন্দর লেগেছে, সে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। সত্যি বলতে চুপচাপ বসে থাকতে ইচ্ছে করে, বসেও ছিলাম। কতবার যে শৈশবে ফিরে গিয়েছি। না জানি, বয়স্ক মানুষরা পড়লে তাদের কি হাল হবে!  এক অফুরান আনন্দে হয়তো কেউ থামতেই পারবেন না। ছোটোবেলাটা যে কত সুখের, সেটা উপন্যাসের তৃতীয় বা শেষ পর্বে এলেই বোঝা যায়! কারণ পড়তে তুলনামূলক ভালো লাগে না অথচ লেখকের কোন দোষ নেই। তিনি কি সুন্দর সব গল্প বলেছেন আমাদের। পাঠক কি না, খিদে একটু বেশিই! কেউ কেউ চতুর্থ পর্বের জন্য অপেক্ষা করেন, চিঠি পাঠান, অবশ্য তার সম্ভাবনার কথা তিনি অঙ্কুরেই বিনাশ করেছেন।

বারবার পড়তে ইচ্ছে করে যেন মালবেরির অপার্থিব গন্ধ পাই পাতা থেকে। পড়তে পড়তে স্তব্ধ হয়ে ভেবেছি — আহ! এমনটাই তো হয়েছিলো! বয়সকালে গিয়ে ফেলে আসা শৈশবের কাহিনী লেখাটা কতটা কষ্টের আবার আনন্দেরও সে বলাই বাহুল্য! সত্যিই সে জীবন ‘অক্ষয়’! এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ বলে মনে করি আমি।

এর চেয়ে বেশি কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই বা আরও পড়তে হবে দু’বার  অনুভূতি টনটনে করার জন্য।  শব্দ জানলাম বেশ কয়েকটি, নতুন। পরে হয়তো সাহায্য করবে এই ‘অক্ষয়’ই!

শুভঙ্কর দত্ত || রামজীবনপুর

March 16, 2020